এশিয়ার প্রধান চালের বাজারগুলোয় গত সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও মুদ্রার বিনিময় হারে ওঠানামার প্রভাবে থাইল্যান্ডে খাদ্যশস্যটির দাম বাড়তি ছিল। তবে নিম্নমুখী চাহিদার প্রভাবে কমেছে ভারতীয় চালের দাম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
থাইল্যান্ডে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম পৌঁছেছে টনপ্রতি ৩৭০ ডলারে। এটি এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩০ ডলার বেশি এবং ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
দেশটির বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, চাহিদা এখনো খুব বেশি নয়। তবে বন্যার প্রভাব ও সাম্প্রতিক নতুন কিছু চুক্তির খবরে দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চীনে চাল বিক্রি বাড়াতে পারে থাইল্যান্ড। এছাড়া খাদ্যশস্যটির রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আবার প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলোও বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে রফতানিকারকদের চাল সরবরাহের জন্য বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক হলেও বন্যায় কিছু এলাকায় ক্ষতি হয়েছে।
ভারতে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮-৩৫৬ ডলারে, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল টনে ৩৫২-৩৬০ ডলার। এ সময় দেশটিতে একই মানের আতপ চাল টনপ্রতি ৩৪৫-৩৫০ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।
মুম্বাইভিত্তিক এক রফতানিকারক বলেন, ‘বর্তমানে চালের বাজার অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ। রুপির বিনিময় হার কমে যাওয়ায় ভারতীয় রফতানিকারকরা আরো কম দামে পণ্যটি অফার করতে পারছেন।’
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম গত সপ্তাহে বেড়ে টনপ্রতি ৩৫৯-৩৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। এটি আগের সপ্তাহের টনে ৩৫০-৩৫৫ ডলারের তুলনায় বেশি।
হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী জানান, এশিয়ায় চালের চাহিদা কম। তাই কিছু রফতানিকারক ঘানা, আইভরি কোস্টসহ আফ্রিকার বাজারে চাল সরবরাহ করছে।
তিনি আরো জানান, ভিয়েতনাম থেকে ফিলিপাইনে চাল সরবরাহ বেশ কয়েক দিন ধরেই কমতির দিকে। এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে কৃষকরা বিকল্প জাতের ধান চাষে ঝুঁকতে পারেন।